ইন্টারভিউ || Bengali Short Story ||
ইন্টারভিউ
শ্রীরুপের সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গেছে বেশ কয়েক বছর আগে, তারপর থেকেই বেশ মন-মরা
জিনিয়া। নতুন করে আর ভালো থাকার চেষ্টা করেনি সে। একা একাই কাটিয়ে দিয়েছে বছরগুলো। শ্রীরুপকে
একরকম ভুলেই গেছিল। কলেজ থেকে পাস-আউট করে বেশ কয়েকবছর বসে ছিল জিনিয়া। কিছুই ভালো
লাগছিল না তার। বাড়িতে থেকে সংসারের কাজে হাত লাগাতো, মা কে সাহায্য করতো, ইত্যাদি।
শ্রীরুপ এখন কোলকাতার এক নামী কোম্পানির মালিক। প্রচুর সম্পত্তি, গারি-বাড়ি সব
আছে। তবুও, জিনিয়ার সাথে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেও কিরকম যেন মন-মরা থাকে,
কিন্তু সেটা গোপনে। বাইরে সবসময় সতেজ। নিজের কাজের প্রতি অটল। আসলে, সম্পর্কটা যখন
ছিল তখন দুজনের কেউই মানিয়ে নিতে পারেনি। আসলে, ওদের বয়সের পার্থক্যটা একটু বেশিই।
তাই, জিনিয়া যখন শ্রীরুপের জন্যে পাগল, শ্রীরুপ তখন নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত।
তবে, এতকিছুর পরেও দুজনের, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা একটুও কমেনি। অথচ দুজনের কেউই
তারপর থেকে আর যোগাযোগ করেনি। শ্রীরুপ নিজের কোম্পানি নিয়ে ব্যস্ত এখন। আর,
জিনিয়াও ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। শ্রীরুপের কোম্পানির ব্যাপারে কিছুই জানে না জিনিয়া,
কারন সোশ্যাল সাইট গুলো তেমন একটা ব্যাবহার করেনা শ্রীরুপ, ফেসবুক তো একেবারেই নয়।
এমন কি, কোম্পানির সোশ্যাল সাইট দেখার জন্যেও লোক রেখে দিয়েছে।
বেশ কয়েকদিন জিনিয়া বাড়িতে থেকে ক্লান্ত হয়ে যেত। একবার ভাবল, কোথাও থেকে ঘুরে
আসবে। কিন্তু, বাবার অফিস থেকে ছুটি না মেলায় সেও সারাদিন টিভি নিয়ে পড়ে থাকলো।
হঠাৎ একদিন বাবা বলল,
“জুলি, সারাদিন বসে না থেকে একটা চাকরিও তো করতে পারিস রে। আমার এক বন্ধুর
মেয়ে কিছুদিন আগে একটা কোম্পানিতে চাকরি পেলো, ওরা নাকি এখনও লোক নিচ্ছে। তুই
একবার কথা বল না মা।”
জিনিয়া ও “আচ্ছা বাবা। ” বলে একটা সাধারন ভাব নিয়ে আবার টিভি তে মন দিল। হঠাৎ
কি মনে হল, চিৎকার করে বাবা কে ডাকতে লাগলো। বাবা আসতে সে বলল, “তুমি ওনাকে বোলো,
আমি চাকরি করবো।”
বাবা বেশ খুশি খুশি মুখ নিয়ে অফিসে চলে গেল।
সন্ধ্যেবেলায় অফিস থেকে ফিরে জিনিয়াকে একটা কাগজ দিয়ে ওর বাবা বলল, “বলে
দিয়েছি কথা। কাল সকাল ১১টার সময় এই ঠিকানাতে চলে যাস। আর হ্যাঁ, তোর সব কাগজ,
মার্কশিট এগুলো নিয়ে যাবি।।”
পরের দিন সকাল সকাল উঠে, স্নান করে পুজো করে জিনিয়া বেরিয়ে গেল তার ইন্টারভিউ
দিতে।
সময় মতো পৌঁছে গেল অফিসে।অফিসে ঢুকে রিসেপ্সানে কথা বলে এক জায়গায় বসলো। ওর নাম ডাকলে তখন ভেতরে যেতে
পারবে। প্রায় ১৫-২০মিনিট পর ওর নাম ডাকলে ও ভেতরে যায়। রুমের ভেতরে গিয়ে দেখে বিশাল
বড় রুমে শুধু একজনই পেছন দিক করে বসে আছে। টেবিলের সামনে গিয়ে জিনিয়া দাঁড়াতেই
ভদ্রলোক চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে, পাশে রাখা ব্লেজার টা পরতে পরতেই বলল, “ হঠাৎ
আমার এখানেই আসতে হল?” বলে ঘুরে পড়লো।
জিনিয়ার হাত থেকে সমস্ত কাগজগুলো নীচে পড়ে গেল। জিনিয়া নীরব, মুখে কোনো কথা
নেই। শ্রীরুপ বেরিয়ে এসে সব পেপার তুলে টেবিলে রেখে চেয়ার টা এগিয়ে দিয়ে বলল,
“বসুন জিনিয়া সান্যাল ”
( এরপরের অংশটা কথোপকথনের আকারে
তুলে ধরলাম। নাহলে, বুঝতে অসুবিধে হত। )
শ্রীরুপঃ
“কেমন আছো?”
জিনিয়াঃ
“চলছে কোনোরকম। তুমি
কেমন আছো?”
শ্রীরুপঃ “তুমি যেমন ভাবে রেখে গেছিলে তেমন করেই থেকে গেছি।”
জিনিয়াঃ “এখন আবার পুরনো কথা কেন?”
শ্রীরুপঃ “তোমার কাছে আমি তাহলে এখন পুরনো হয়ে গেছি?”
জিনিয়াঃ “তোমার কাছেও তো আমি……”
শ্রীরুপঃ “তাহলে ওই ছবিটা এখনও আমার চোখের সামনে আজ থাকতো না।”
(টেবিলের
সামনেই জিনিয়ার একটা ছবির দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে কথা গুলো বলল শ্রীরুপ)
জিনিয়াঃ “মানে কি? আজও!”
শ্রীরুপঃ “হ্যাঁ, আজও। সারাজীবন একই থাকবে।”
জিনিয়াঃ “সত্যি কথা বলতে আজ বুঝতে পারি যে, আমি কতোটা
ভুল ছিলাম।
হ্যাঁ! আমি সত্যিই ভুল ছিলাম। আমি
তোমার পরিস্থিতিটা বুঝতে
পারিনি তখন। অতিরিক্ত ভালোবাসার অধিকার দেখাতে গিয়েই
আমরা
নিজেদের কে শেষ করেছি। অবশ্য আমি এখন আর ফিরতে
চাই
না। আর চাকরিটা খুব দরকার তাই আসা। নাহলে জানতেই
পারতাম
না কেমন আছো? কি করছো? ইত্যাদি…।। ”
শ্রীরুপঃ “ কেন সম্ভব না?? ”
জিনিয়াঃ “আমি আর জড়াতে চাই না। আমার চাই না এই চাকরি। আমি উঠলাম।
ভালো
থেকো।”
শ্রীরুপঃ “ বলছি যে, আবার নতুন করেই কি গল্পটাকে লেখা যায় না। একদম
শুরু থেকে ? ”
জিনিয়াঃ “ শুরু তো করাই যাই। কিন্তু, তার থেকে দুজন দুজনের মতো
থাকলে ভালো হোতো না কি?! ”
শ্রীরুপঃ “ভালো তো অনেক কিছুই হত, তবে আমার P.A. এর পোস্টের
জন্যে সেরকম কাউকে পাচ্ছি না। তো, নিজের
চেয়ারটা ছেড়ে
দিয়েই বলছি। I wanna be your
personal Assistant. I need
this job in your heart forever. Will you give
me?!”
এরপর কেটে গেছে, একটা বছর। জিনিয়া যে কোম্পানিতে চাকরি
করতে গেছিলো, সে এখন সেই কোম্পানির মালিক। আর শ্রীরুপ………… এত বছরের পরিশ্রমের ক্লান্তি
কাটাতে, সংসার সামলাচ্ছে আর জিনিয়ার হাতে হাত ধরে কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বেশ ভালো।
ReplyDelete