স্বপ্নের রাতে সান্তা || Bengali Short Story ||
স্বপ্নের রাতে সান্তা
- শুভম বেরা
রাত
১১টা, আজকে একটু তাড়াতাড়িই খেয়ে নিয়ে শুতে গেল রুপম। কাল বড়দিন। ছোটবেলার মতো এখনও
ঘুমোনোর আগে বিছানার পাশে একটা মোজা রেখে দিল সে। রুপমের বয়স বছর ১৭-১৮ হলেও মনটা এখনও
শিশুসুলভ। ঠাণ্ডাটা আজ একটু বেশিই পড়েছে। তাই, রুপম তাড়াতাড়ি করে লেপের তলায় ঢুকে শুয়ে
পড়ল। রাতে আবার ওর গল্পের বই না পড়লে ঘুম আসে না। তাই, বিছানার পাশে রাখা ব্যোমকেশ
সমগ্রটা নিয়ে পাতা ওলটাচ্ছিল।
খানিকপরে একটা দমকা হাওয়া এসে ওর গায়ে লাগলো।
“একি,
জানালাটা তো বন্ধ করে দিয়েছিলাম খুলে গেল কি করে? ” ,রুপম হালকা স্বরে বলল।কিন্তু, এটার পরে যেটা ঘটল সেটার জন্যে একটুও প্রস্তুত ছিল না সে।
রুপম কিরকম যেন এক জায়গায় সিটিয়ে গেল। তারপর ধুপ করে একটা বছর ৬০-৭০ এর বুড়ো খোলা জানালা দিয়ে সটান ভেতরে ঢুকে এসে সোজা গেল খাটের পাশে। তারপর সেখানে ঝোলানো মোজা টা হাতে নিয়ে বলল, “দেখি, তোমার আবার দাবিগুলো কি?! এখনকার ছোড়া গুলোর তো দাবীর শেষ নেই। এ বলে ক্যামেরা, তো সে বলে স্মার্ট ফোন। তোমার আবার কি ধরনের দাবি একটু চোখ দেই। ”
কিন্তু, কাগজে চোখ যেতেই বুড়ো যেন কীরকম একটা গম্ভীর হয়ে গেলেন। তাতে লেখা ছিল,
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো মায়ের ডাকে। পাশ ফিরে দেখলো ব্যোমকেশ সমগ্রটা তখনও খোলা। বুঝতে পারলো, কাল রাতে যা হয়েছে পুরোটাই স্বপ্ন ছিল। বিছানার পাশে রাখা মোজাটা ঝাপিয়ে পড়ে তাতে হাত ঢুকিয়ে দেখলো, তাতে একটা কার্ড। আর তার ওপরে লেখা,
একটা
ভারী গলায় কেউ যেন বলে উঠলো, “কি হে ছোড়া! বলি, গিফট নেবে বলে তো মোজা রেখেছ। কিন্তু
সেটা দেওয়ার জন্যে তো জায়গা রাখতে হবে নাকি ঢোকার জন্যে?! ”
“আমি আর বেশিদিন
বাঁচবো না। কিন্তু, এই ঠাণ্ডায় যে সমস্ত বাচ্চাগুলো ঠাণ্ডায় রাস্তায় রাত কাটাচ্ছে,
না খেয়ে ঘুমোচ্ছে তাদের কে তুমি সেই সুখটা দাও যেটা আমাকে দেওয়ার জন্যে এসেছো। ওদের
থাকার জায়গা নেই, পরার জামা-কাপড় নেই। সেখানে বড়দিনের সান্তাক্লসের গিফট পাওয়ার জন্যে
মোজা খোঁজা মুর্খামি। তুমি আমাকে উপহার দেওয়ার বদলে, সমস্ত মেয়েদের নিরাপত্তা উপহার
দাও যাতে তারা আজকের মতো বাকি রাতগুলোও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে ।। আর পরিশেষে, আমি
জানিনা আমার বাবাকে কে মেরেছে। তাদের তুমি ক্ষমা উপহার দিও আর আমার মা’কে নিরাপদ রেখো
। ”বুড়ো
বিছানার ওপর বসে পড়ল। পাশে এসে বসল রুপম।
“আমার
ক্যান্সার হয়েছে। হয়তো আর কিছুটা সময় বাঁচবো। তাই, কোনো উপহার নিয়ে সেগুলো ফেলে রাখতে
চাই না। তুমি না হয় আমার গুলো তাদের মাথার কাছে রেখে দিও যাদের মাথার পাশে মোজা নেই।।
”
বুড়ো
রুপমের মাথায় হাত বুলিয়ে একটু আদর করে দিয়ে হঠাৎ করেই আবার জানালা গলে চলে গেল।
Comments
Post a Comment